[english_date], [bangla_time]

শিরোনাম:

২২৭ পদের বিপরীতে চিকিৎসকের আছেন মাত্র ৫৭ জন!

 জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২২৭ হলেও চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৫৭ জন। ফলে চিকিৎসাসেবার অবস্থা যা হবার কথা হচ্ছেও তাই। হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তবেই মিলছে সেবা। এমনি ভাবে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা।

জেলা হাসপাতালের মতো একই অবস্থা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও। যে পরিমাণ চিকিৎসক থাকার কথা, কোনটিতেই তার অর্ধেকও নেই।

জানা গেছে, প্রতিদিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগীদের ভিড় আর লম্বা লাইন হলেও ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসক মাত্র ১৫ জন। জনবলের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশও নোংরা। ময়লা পড়ে আছে যত্রতত্র। সদর হাসপাতালেরই যখন এমন দশা, তখন সেবা নিতে এসে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। জনবলের অভাবে ব্যবহার হয় না যন্ত্রপাতিও।

এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিম সরকার বলেন, জেলার প্রতিটি হাসপাতালেই চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সদর হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠার সময় ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ছিল ২১ জন চিকিৎসক। ২০০৩ সালে ১০০ শয্যায় এবং এক বছর আগে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক বাড়েনি। বরং কয়েকজন চিকিৎসক চলে যাওয়ায় বর্তমানে ১৫ জন কর্মরত আছেন। অথচ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে দেড় হাজারেরও বেশি রোগী। হাসপাতালে থাকা জনবল দিয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৭ জন চিকিৎসকের জায়গায় কর্মরত আছেন ১১ জন। এ ছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৮ জনের জায়গায় ১১ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জনের মধ্যে ৯ জন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জনের মধ্যে ৬ জন কর্মরত আছেন।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকদের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২২৭। কিন্তু কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৭ জন। অনেক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও চিকিৎসক বাড়েনি। কয়েক বছর ধরে নতুন করে নিয়োগও দেওয়া হয়নি কাউকে। নতুন চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান হবে না।