২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, রাত ১০:৫৭

শিরোনাম:

দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুয়া বিল ভাউচারে অর্থ আত্মসাত্!

অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে :মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানির ট্যাংক পরিষ্কার, অ্যাম্বুলেন্স মেরামত ও আপ্যায়ন বাবদসহ কয়েকটি খাত থেকে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া আরো কয়েকটি খাতের সাড়ে ৩ লাখ টাকার সন্ধান মিলছে না। এসব অর্থ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রাহমানসহ কয়েকজন কর্মচারী আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র মতে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে জুন মাসেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে ৩ লাখ এবং আপ্যায়নের নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে। এছাড়াও, আশির দশকে পরিত্যক্ত থানা ডিসপেনসারির আগাছা পরিষ্কারের নামে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত আত্মসাত্ করা হয়েছে লাখ টাকারও বেশি। অনুসন্ধান করে ও প্রাপ্ত বিল ভাউচারের কপি ঘেঁটে দেখা গেছে, গত বছরের (২০১৮ সাল) নভেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আগাছা, ড্রেন ও পানির ট্যাংক পরিষ্কার বাবদ পৃথক সাতটি বিলের মাধ্যমে মোট ৯ লাখ ৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯০ হাজার টাকা করে ঝোঁপ-ঝাড় পরিষ্কার বাবদ উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি বছরে আবারও একই খাতে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ আরো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আকন্দ জানান, এসব ব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের ‘মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের’ সময় গত ২৮ অক্টোবর ঐ কর্মকর্তার সরকারি বাসায় ‘এক মণ মা ইলিশ’ মজুদের দায়ে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই সংবাদটি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের চারপাশ ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আবাসিক ভবনের আশপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। এছাড়া প্ল­াস্টিক জাতীয় আবর্জনায় ভরপুর পুরো এলাকাটি। আবাসিক ভবনের পেছনের অংশ দেখে মনে হবে সেটি বহুদিনেও পরিষ্কার করা হয়নি।

স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে শুধু এক মাসেই (চলতি বছরের জুন) আপ্যায়ন বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিল দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সের পরিসংখ্যানবিদ আসাদ মিয়া বলেন, ‘আপ্যায়ন বাবদ যে বিল করা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক এবং ভুয়া। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালেও মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি আপ্যায়ন বিল হয় না।’

স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সের পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আসাদ মিয়া এবং প্রধান সহকারী আবদুল বাতেন বলেন, ‘শুধু ভুয়া বিল-ভাউচার করে এসব অর্থ আত্মসাত্ করা হয়েছে।’ তারা আরো জানান, হাসপাতালের আসবাব ক্রয় ও মেরামত বাবদ বিভিন্ন ভুয়া বিল করে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে। এসব টাকা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশিকুর রাহমানসহ অফিস সহকারী রজ্জব আলী খান ও ফজলুল হক এবং যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ সহকারী ফিরোজ তালুকদার মিলে আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিসংখ্যানবিদ এবং প্রধান সহকারীর মতে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যেসব ফলজ ও বনজ গাছ কাটা হয়েছে সেগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকার বেশি হবে। অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে এসব গাছ কেটে বিক্রির চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে সেসব গাছের গুঁড়ি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফেলে রাখা হয়।

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম রাজা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। তিনি এটি উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপনও করেছেন। তার মন্তব্য, এ ধরনের অনিয়মের তদন্ত হওয়া দরকার। এসব দুর্নীতি-অনিয়মের ব্যাপারে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আকন্দ বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’